উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি ও রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমাতে কৃষি বর্জ্য থেকে তৈরি ‘বায়োচার’ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন কৃষি বিজ্ঞানীরা। রোববার রাজধানীর বিএআরসি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক জাতীয় কর্মশালায় জানানো হয়, এই প্রযুক্তি ব্যবহারে ভুট্টার ফলন ২৯ শতাংশ এবং ধানের ফলন ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।
বায়োচার হলো কৃষি বর্জ্য, খড় বা কাঠ অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় পুড়িয়ে তৈরি এক ধরনের কয়লা। এটি মাটিতে পানি ও পুষ্টি ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। বিশেষ করে দেশের দুই-তৃতীয়াংশ অম্লীয় মাটির গুণাগুণ উন্নয়নে এটি ‘থ্রি ইন ওয়ান’ প্রযুক্তি হিসেবে কাজ করতে পারে বলে গবেষকরা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মফিজুর রহমান জাহাঙ্গীর জানান, বায়োচার ব্যবহারে মাটিতে পানি ধারণক্ষমতা ১৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এছাড়া বায়োচার প্রলেপযুক্ত ইউরিয়া ব্যবহার করলে ফলন ঠিক রেখেই প্রায় ২৫ শতাংশ নাইট্রোজেন সার সাশ্রয় করা সম্ভব, যা আমদানিতে সরকারের ব্যয় কমাবে।
বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো: আব্দুছ ছালাম জানান, বাজারে পাওয়া যেকোনো বায়োচার সরাসরি ব্যবহার করা ঠিক নয়। মাটির স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক মানদণ্ড ও জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন জরুরি। এছাড়া কৃষকদের উৎসাহিত করতে এই খাতে সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।
বারি মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ মনজুরুল কাদির ভুট্টার মোচা ও শুকনো গাছকে বায়োচারের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, পরিকল্পিতভাবে কৃষি বর্জ্য সংগ্রহ করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং পরিবেশ দূষণ রোধ করা সম্ভব হবে। কর্মশালায় কৃষি খাতের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।