উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
গাড়ি থেকে নেমে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার ও মাদকবিরোধী অভিযানে অংশগ্রহণের ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের ওপর নিজ দল বিএনপি ও সরকারের ভেতরে অস্বস্তি ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুমটিঘর রেলগেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ভিডিও প্রকাশিত হয়। মন্ত্রিসভার সদস্য থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের কেউ কেউ এতে বিব্রত হওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন কেন একজন প্রতিমন্ত্রী নিজেই অস্ত্র হাতে অভিযানে নামলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের দিনেই এই ঘটনা ঘটায় তাঁর দিনভর পরিদর্শনের ইতিবাচক আলোচনা অনেকটাই ম্লান হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ইশরাকের এই আচরণের দায় পুরো মন্ত্রিসভাকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির একজন শীর্ষ নেতা। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, মন্ত্রিসভার সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তাসহ মোট ১০ জনের সঙ্গে কথা বলে এই প্রতিক্রিয়া জানা গেছে। মাদকের বিরুদ্ধে উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কারও আপত্তি না থাকলেও আপত্তি রয়েছে প্রতিমন্ত্রীর অভিযান পরিচালনার ধরন নিয়ে। এদিকে অস্ত্র হাতে ইশরাকের অভিযানের ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে এই তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম জানান যে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইশরাক অবশ্য নিজের কর্মকাণ্ডকে সামাজিক প্রতিরোধের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা করে এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য তিনি অল্প সময়ের জন্য বৈধ ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন। শনিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক সেই সময়েই এই বিতর্কিত ঘটনাটি ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরিэশনে থাকা মন্ত্রিসভার একজন সদস্য জানান যে প্রধানমন্ত্রীর দিনভর অর্জন ইশরাকের কর্মকাণ্ডে নষ্ট হয়েছে এবং তিনি নিজেও এতে বিব্রত ও বিরক্ত। সরকারের আরেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বলেন যে মাদকের বিরুদ্ধে ইশরাকের উদ্দেশ্য ঠিক থাকলেও তিনি এত বেপরোয়া হয়ে গেলেন কেন সেটাই প্রশ্ন। ইশরাকের এই কর্মকাণ্ডকে দুধে এক ফোঁটা চুনার পড়ার সঙ্গে তুলনা করে দলের শীর্ষ নেতারা বলছেন যে সরকারের জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের মধ্যে এমন আচরণ পুরো মন্ত্রিসভাকে বিব্রত করেছে। সমালোচনার মুখে দেওয়া বিবৃতিতে ইশরাক দাবি করেন যে একটি অস্থায়ী মাদক আস্তানার কাছে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি মারমুখী ভঙ্গিতে এগিয়ে আসায় আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরা হয়েছিল। তবে ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়টি স্পষ্ট নয় কারণ ওয়ারী বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা জানিয়েছিলেন প্রতিমন্ত্রী আগে থেকে পুলিশকে জানাননি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের আগ্নেয়াস্ত্রের নীতিমালার ২৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অন্যের মধ্যে ভয় বা বিরক্তি সৃষ্টি করতে পারে এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না এবং ইশরাকের ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না তা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে। ইশরাক বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটিরও সদস্য হওয়ায় তাঁর অস্ত্র হাতে অভিযানের ছবি বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলের এক নেতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার পাশাপাশি তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি উঠলেও শনিবার সন্ধ্যায় প্রতিমন্ত্রী ফেসবুকে ঘোষণা দেন যে ঢাকা-৬ আসন মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।