উচ্চ মানের ছবি তৈরি হচ্ছে... অপেক্ষা করুন
দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিএনপি সরকার গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কারের বদলে প্রচলিত পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের পথে এগোচ্ছে বলে মনে করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সে জন্য এই প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে সরকারকে অবস্থান বদলাতে চাপ দিতে সংসদের পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন জোরদার করতে চায় দলটি। জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে। জামায়াতের নেতারা মনে করেন, সংবিধান সংশোধন ও সংস্কার—দুটি বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিরোধীদলীয় নেতারা। বিশেষ কমিটিতে অংশ নিলে সরকারের এই প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক বৈধতা দেওয়া হবে—এমন যুক্তিতেই তাঁরা কমিটিতে প্রতিনিধি দেননি। এ অবস্থায় সংসদের পাশাপাশি রাজপথে কর্মসূচি জোরদার করে সরকারকে অবস্থান বদলাতে চাপে রাখতে চান তাঁরা। তবে এসব কর্মসূচিকে আপাতত সরকার পতনের আন্দোলন হিসেবে দেখছেন না জামায়াতের নেতারা।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ৬ অক্টোবর প্রথম আলোকে বলেন, সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কমিটি গঠন করে নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করছে। সেটি যাতে তারা করতে না পারে, সে জন্য মাঠের আন্দোলন জোরদার করতে চায় জামায়াত। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পাশাপাশি নতুন করে গণভোট আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন গণভোটও অনুষ্ঠিত হয় এবং সেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রাষ্ট্রসংস্কারের পক্ষে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দেন। গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে ১২ সদস্যের সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি গঠন করা হয় এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এই কমিটির সভাপতি করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা শেষে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।