ওয়ানডে ক্রিকেটে নতুন নিয়ম চালুর পর বোলারদের দাপট ও খেলার ধরনে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বর্তমানে শেষ ১০ ওভারে পেসারদের করা ফুল লেংথ বলের অর্ধেকের ক্ষেত্রেই এক ডিগ্রির বেশি সুইং পাওয়া যাচ্ছে। নিয়ম পরিবর্তনের আগের ১৮ মাসে এই হার ছিল মাত্র ৩৫ শতাংশ। এর ফলে ইনিংসের শেষ দিকে আগের মতো সহজে বড় শট খেলা ব্যাটারদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
বোলারদের এই উন্নতির প্রভাব পড়েছে রান দেওয়ার হারেও। নিয়ম পরিবর্তনের আগে শেষ পাঁচ ওভারে পেসারদের ইকোনমি রেট ছিল ৮.৪০, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৭.৯৫-এ। এছাড়া পেসারদের বোলিং গড়ও প্রতি উইকেটে ১৯.২ থেকে কমে ১৮.৩ হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, বোলাররা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করছেন।
নতুন এই নিয়মে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে ইংল্যান্ড। ২০২৫ সালের জুলাইয়ের পর থেকে দলটির ডেথ ওভারে বোলিং গড় ৩৬.৭৬ থেকে কমে ২০.৯১ হয়েছে। একই সময়ে তাদের ইকোনমি রেট ৯.৭৮ থেকে নেমে এসেছে ৭.৫৩-এ। কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম খেলোয়াড়দের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে কৌশলগত পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন।
ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের আলজারি জোসেফ ও দক্ষিণ আফ্রিকার লুঙ্গি এনগিডি উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছেন। জোসেফের গড় সুইং ৮৪ শতাংশ বাড়ায় তার বোলিং গড় ১৭.৪-এ নেমেছে। একইভাবে এনগিডির সুইং ৬৩.৩ শতাংশ বেড়েছে এবং তার ইকোনমি রেট ৯.৩৪ থেকে কমে ৬ হয়েছে। বাংলাদেশের মুস্তাফিজুর রহমান ও পাকিস্তানের নাসিম শাহর সুইং পাওয়ার ক্ষেত্রেও উন্নতি হয়েছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটের শর্তে এই পরিবর্তন আনা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৩৪ ওভার শেষে অধিনায়ক দুই প্রান্তের বলের মধ্যে একটি বেছে নিতে পারেন। এর ফলে নির্বাচিত বলটি বেশি পুরোনো ও রুক্ষ হওয়ার সুযোগ পায়, যা রিভার্স সুইংয়ের পুনর্জাগরণ ঘটিয়েছে। লর্ডসে ভারতের বিপক্ষে স্যাম কারানের বোলিংয়েও এর প্রতিফলন দেখা গেছে।
বিশ্বকাপের আগে এই পরিবর্তন বোলারদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে সুইং বৃদ্ধির প্রভাব এখনও তুলনামূলক কম, তবে ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশে এই হার যথাক্রমে ৬৩ ও ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। আগামী বছরের বিশ্বকাপের আগে দলগুলো এখন রিভার্স সুইংকে ঘিরেই তাদের নতুন রণকৌশল সাজাচ্ছে।








