বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাকিস্তানের বাজারে তাজা আনারস রফতানি শুরু হয়েছে। টাঙ্গাইলের মধুপুরে উৎপাদিত প্রায় দুই টন বা এক দশমিক ৮৩ মেট্রিক টন আনারসের প্রথম চালান শনিবার ১৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টায় সরাসরি ঢাকা-করাচি ফ্লাইটে পাঠানো হয়েছে। সামিন ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই চালানটি রফতানি করছে এবং পাকিস্তানের লাহোরভিত্তিক আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান প্রাইম টেক এসব আনারস আমদানি করছে। রফতানির আগে রাজধানীর শ্যামপুর প্যাকিং হাউজে আনারসগুলো বাছাই, গ্রেডিং ও মান নিয়ন্ত্রণ করা হয় এবং রফতানিযোগ্য মান নিশ্চিত করার পরই চালানটি পাঠানো হয়েছে যা আগামীকাল পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের রাজধানীর শ্যামপুর প্যাকিং হাউজের উপপরিচালক মো: আমিনুর রশিদ মুকুল জানান, মধুপুর থেকে সংগ্রহ করা আনারসগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাকিস্তানে পাঠানো হয়েছে এবং পাকিস্তানের বাজারে বাংলাদেশের আনারসের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। উদ্যোক্তা সামিন ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী জুয়েল আহমেদ জানান, তার ব্যবসায়িক জীবনে এটি প্রথমবারের মতো আনারস রফতানি এবং তার প্রতিষ্ঠানের জন্য পাকিস্তানে ২২ টন আনারস রফতানির অর্ডার রয়েছে। এছাড়া অন্য একজন রফতানিকারকের ২০ টন আনারস রফতানির অর্ডার রয়েছে, যার ফলে সব মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ৪২ টন আনারস রফতানির অর্ডার পাওয়া গেছে।
পাকিস্তান বিভিন্ন দেশ থেকে ফল ও মসলাজাতীয় পণ্য আমদানি করে থাকে এবং বাংলাদেশ থেকে তাজা আনারস রফতানির এই উদ্যোগ দেশটির বাজারে নতুন সরবরাহের সুযোগ তৈরি করেছে। কৃষিপণ্য রফতানি বাড়াতে সরকারি উদ্যোগ ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে জুয়েল আহমেদ বলেন যে কৃষি মন্ত্রণালয়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিলে সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্যগুলো বিদেশের বাজারে আরো ভালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। এই আনারস রফতানির উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও পাকিস্তানে বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা ছিল। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক যোগাযোগের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃষিপণ্যের রফতানি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, মধ্যপ্রাচ্য ও প্রতিবেশী ভারতে সীমিত পরিসরে তাজা আনারসসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য রফতানি হয়ে থাকে এবং পাকিস্তানের বাজারে প্রবেশের এই উদ্যোগ দেশের আনারস রফতানির গন্তব্য সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। উদ্যোক্তা জুয়েল আহমেদ জানান যে পাকিস্তানে আনারসের প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং আরেকটু সহযোগিতা করা হলে মরিঙ্গা পাউডার, পান, সুপারি, নারিকেল, কাঁঠাল ও ড্রাগন ফলের মতো পণ্যেরও সেখানে ভালো বাজার তৈরি করা সম্ভব।








