বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ে পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশের সময়সীমা নির্ধারণে এক সপ্তাহের দীর্ঘ ও কঠিন আলোচনা শেষে ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি)। শুক্রবার আলোচনায় ফ্রান্সের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি বেনোয়া ফারাকো এ তথ্য জানান। প্যারিস থেকে এএফপি জানায়, লিংকডইনে দেওয়া এক পোস্টে ফারাকো বলেন যে এক সপ্তাহের কঠিন আলোচনার পর পাঁচটি মহাদেশের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর একটি বিস্তৃত জোট বিজ্ঞানীদের প্রস্তাবিত সময়সীমা বজায় রাখার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ছিল।
ইউরোপের অনেক দেশ ২০২৮ সালে আইপিসিসির পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশের পক্ষে থাকলেও কয়েকটি দেশ তা পিছিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছে। সৌদি আরব, ভারত ও চীনসহ কয়েকটি দেশ বলেছে, আইপিসিসির সপ্তম মূল্যায়ন প্রতিবেদন ২০২৯ সালে প্রকাশ করা হলে উন্নয়নশীল দেশগুলো এর ফলাফল পর্যালোচনা ও নিজেদের পরিকল্পনায় তা কাজে লাগানোর জন্য আরও সময় পাবে। সোমবার আদ্দিস আবাবায় আইপিসিসির বৈঠক শুরু হলে সংস্থাটির চেয়ারম্যান জিম স্কিয়া দেশগুলোকে অচলাবস্থা নিরসনের আহ্বান জানান।
এর আগে গত সপ্তাহে ৩০টিরও বেশি দেশের মন্ত্রীরা একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন যেখানে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর সঙ্গে যাদের দীর্ঘদিনের স্বার্থের সংঘাত রয়েছে, তাদের সমালোচনা করা হয়। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ৩৫টি দেশের প্রায় অর্ধেক ছিল ইউরোপীয় ও অন্যান্য শিল্পোন্নত দেশ এবং বিশ্বের ৪৪টি দরিদ্রতম দেশের প্রতিনিধিত্বকারী স্বল্পোন্নত দেশগুলোর গোষ্ঠীর চেয়ারম্যানও এতে স্বাক্ষর করেন। মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের জলবায়ুবিষয়ক দূত টিনা স্টেগ বলেন যে কয়েকটি দেশ বারবার আইপিসিসির প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব ঘটাচ্ছে—এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়।
জলবায়ু অ্যাকশন নেটওয়ার্কের শ্রীশান ভেঙ্কটেশ এ ব্যর্থতায় গভীর হতাশা প্রকাশ করে যত দ্রুত সম্ভব আইপিসিসির আলোচনা পুনরায় আয়োজনের আহ্বান জানান। আইপিসিসির প্রতিবেদন সাধারণত প্রতি পাঁচ থেকে সাত বছর পর প্রকাশিত হয় এবং সংস্থাটির ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল ২০২১ সালে। ঢাকা থেকে ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে বাসস এই সংবাদ প্রকাশ করে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর অগ্রগতি পর্যালোচনায় প্রতিবেদনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।








