বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ গ্যারান্টির আওতায় সোনালী ব্যাংক পিএলসি থেকে ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি সাত হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা পেয়েছে। তিন মাস মেয়াদি এই ঋণের সুদের হার ১০ শতাংশ এবং ইতোমধ্যে ঋণের অর্থ লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সোনালী ব্যাংককে ওই অর্থ পরিশোধ করবে।
এই সহায়তার ফলে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে ফিরতে পারবে ন্যাশনাল ব্যাংক এবং গ্রাহকেরা তাদের আমানতের টাকা তুলতে পারবেন। ব্যাংকটি আমানত উত্তোলনের আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে এবং গত ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত প্রায় সাত হাজার আবেদন জমা পড়েছে। গ্রাহকসেবা চালুর আগে ১৪ অক্টোবরের মধ্যে সব শাখায় প্রয়োজনীয় অর্থ পৌঁছানোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গত সপ্তাহে ন্যাশনাল ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমানতকারীদের টাকা পরিশোধের সুবিধার্থে তারল্য সহায়তা চেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো: মোস্তাকুর রহমানের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর বাংলাদেশ ব্যাংক সহায়তার আশ্বাস দিয়ে ১৫ অক্টোবর থেকে সব শাখা ও এটিএম বুথের মাধ্যমে টাকা উত্তোলনের সুযোগ নিশ্চিতে নির্দেশনা দেয়। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সঙ্কটে থাকা ব্যাংকটির ২০২২ সাল থেকে গত চার বছরে মোট লোকসানের পরিমাণ প্রায় নয় হাজার কোটি টাকা।
ব্যাংকটির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ব্যাংকটির লোকসান হয়েছে দুই হাজার ৪৩০ কোটি টাকা এবং ২০২৪ সালে যার পরিমাণ ছিল এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংকটির লোকসান বেড়েছে ৪১ শতাংশ এবং ২০২৫ সালের শেষে মোট বকেয়া ঋণের ৫৯ দশমিক ৬৯ শতাংশই ছিল খেলাপি ঋণ। গত মাসে ন্যাশনাল ব্যাংকের চার আমানতকারী সঞ্চয়ের টাকা ফেরত পেতে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হবার পর ব্যাংকটি এই সর্বশেষ তারল্য সহায়তা পেল।
ন্যাশনাল ব্যাংক ১৫ অক্টোবর থেকে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংকিং সেবা পুনরায় চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে যার মাধ্যমে গ্রাহকরা তাদের আমানতের টাকা তুলতে পারবেন।








