অর্থনীতি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে: ড. তিতুমীর

উত্তরা পোস্ট
ডেস্ক রিপোর্ট ১ ফলোয়ার
আপডেটঃ ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ | ২:০১ ৬ ভিউ
অর্থনীতি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে: ড. তিতুমীর

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানিয়েছেন, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বাংলাদেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে উদ্ধার করে স্থিতিশীলতা রক্ষায় সমর্থন ও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ। বুধবার সকালে ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে তিনি এই তথ্য জানান। সরকারের লক্ষ্য অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা এবং দ্রুত সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেয়া বলে উল্লেখ করেন তিনি।

কর ব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, করের হার না বাড়িয়ে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আগের সরকারের আমলে অলিগার্কিক ব্যবস্থার কারণে কর আহরণ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং কর-জিডিপি অনুপাত ৭ শতাংশের নিচে ছিল। বর্তমান সরকার কর ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ, হয়রানিমুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে উদ্যোগ নিয়েছে। রাজস্ব নীতিনির্ধারণ ও রাজস্ব আহরণের দায়িত্ব পৃথক করার বিষয়ে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং সরকার দ্রুত তা কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে।

ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, খেলাপি ঋণ কমানো এবং ব্যাংকগুলোর আর্থিক বিবরণী শক্তিশালী করার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান ড. তিতুমীর। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা তাদের অর্থ ফেরত পেতে শুরু করেছেন এবং আমানতকারীদের ওপর সম্ভাব্য আর্থিক চাপ কমানোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ না করে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। বন্ধ কলকারখানা চালু ও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন প্যাকেজ ঠিক করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সঙ্কট অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করলেও নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সহায়তা করবে বলে জানান উপদেষ্টা। জ্বালানি খাতের চাপ সামলাতে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতো উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী মূল্যস্ফীতির চাপে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা সামাজিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে মোকাবিলা করা হবে। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে আলোচনায় তিনটি বিষয়ে স্পষ্ট ঐকমত্য হয়েছে বলে জানান ড. তিতুমীর। প্রথমত, সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিয়েছে এবং দ্বিতীয়ত, মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্কট মোকাবিলায় সরকারের কৌশলের প্রতি অংশীদারদের আস্থা রয়েছে। অর্থনীতির বাস্তব পরিস্থিতি বদলের জন্য রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণ হ্রাস, মূল্যস্ফীতি কমানো এবং সামাজিক সুরক্ষার সুফল প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে পৌঁছানোর ওপর জোর দেন তিনি। সংস্কারের সুফল পরিসংখ্যানের মাধ্যমে প্রতিফলিত হলেই অর্থনীতির পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেবে বলে মন্তব্য করেন উপদেষ্টা।

ফলো করুন সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের সাথে থাকুন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

অর্থনীতি রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করবে: ড. তিতুমীর
0:00 / 0:00
1x
🔒