সংকটকবলিত সেউতায় স্পেনের রাজা-রানির স্পর্শকাতর সফর

উত্তরা পোস্ট
ডেস্ক রিপোর্ট ১ ফলোয়ার
আপডেটঃ ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ | ৩:৩০ ৬ ভিউ
সংকটকবলিত সেউতায় স্পেনের রাজা-রানির স্পর্শকাতর সফর

মরক্কো থেকে অভিবাসীদের ঢল নামার পর থেকে সংকটে থাকা স্পেনের সেউতা শহর সফর করছেন দেশটির রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও রানি লেতিসিয়া। মঙ্গলবার তাদের এ সফর কূটনৈতিকভাবে বেশ স্পর্শকাতর। সংকটের মধ্যে শহরটির প্রতি সমর্থন জানাতেই তারা সেখানে যাচ্ছেন। ২০০৭ সালের পর এই প্রথম স্পেনের রাজপরিবার সেউতা সফর করছে। ওই বছর প্রতিবেশী মরক্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক সংকট দেখা দিয়েছিল। মরক্কো সেউতা এবং উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের অপর ভূখণ্ড মেলিয়ার সার্বভৌমত্ব দাবি করে। স্পেনের সেউতা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

গত ৩০ ও ৩১ জুলাই নজিরবিহীনভাবে ৭০ হাজারের বেশি অভিবাসী প্রায় ৮০ হাজার বাসিন্দার ছোট শহরটিতে ঢুকে পড়েন। এ ঘটনায় বহু মানুষের মৃত্যু হয়। অভিবাসীদের অধিকাংশই পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ফিরে যান। তবে হাজার হাজার মানুষ কয়েক সপ্তাহ ধরে সেখানে থেকে যান। তাদের অনেকেই রাস্তায় বা সমুদ্রসৈকতে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর পরিবেশে রাত কাটান। এ সংকটে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ২৯ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের আগে সমাজতান্ত্রিক প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের জনপ্রিয়তাও কমেছে। নির্বাচনে অভিবাসন ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সেউতার বাসিন্দা সুসানা রোমান বলেন, রাজার প্রথম বা দ্বিতীয় দিনেই এখানে আসা উচিত ছিল। আর তাঁর আসা উচিত ছিল সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের পোশাকে, কারণ তিনি তা-ই। লেটস সেভ সেউতা প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত ৫৭ বছর বয়সী আইনজ্ঞ রোমান আরও বলেন, সেউতার বাসিন্দাদের কাছে এটি রাষ্ট্রের উপস্থিতির একটি দ্ব্যর্থহীন বার্তা হতো। ৬৬ বছর বয়সী কিয়স্ক ব্যবসায়ী ম্যানুয়েল ফার্নান্দেজ রাজা-রানিকে দেখতে সেদিন কাজ থেকে ছুটি নেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তিনি এএফপিকে বলেন, তাঁদের সমর্থন আমাদের সত্যিই খুব প্রয়োজন ছিল।

মৃতদের প্রতি শ্রদ্ধা- সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক আইন মেনেই অভিবাসীদের আশ্রয় পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। এ ছাড়া অভিভাবকহীন কয়েক শত শিশুকে যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়া ফেরত পাঠানো যাবে না। কর্তৃপক্ষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক হাজার মানুষের থাকার ব্যবস্থা করেছে। সমুদ্রসৈকতের প্রধান শিবিরগুলোও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু অভিবাসী এখনো আশপাশের পাহাড়ি এলাকা ও রাস্তায় অবস্থান করছেন। ৩৩ বছর বয়সী সরকারি কর্মকর্তা আনা মুনোস বলেন, রাজা যদি অনুপ্রবেশের দ্বিতীয় দিনেই আসতেন, তাহলে এখানকার পুরো বিশৃঙ্খলা দেখতে পেতেন। তিনি আরও বলেন, এখন তিনি দেখবেন, সবকিছু পরিষ্কার। কারণ, তাদের ইতোমধ্যে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। রাজতন্ত্রের ওপর আস্থা কিছুটা হারিয়েছেন বলেও জানান মুনোস।

সফরের শুরুতে ফেলিপে ও লেতিসিয়া সিটি হলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর তাঁরা একটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন। পরে তাঁরা একটি কবরস্থানে যাবেন। সেখানে মৃত অভিবাসীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। তাঁদের অধিকাংশই সীমান্তের বেড়া ঘুরে সাঁতরে যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ডুবে মারা যান। সেউতার নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে রাজা ফেলিপের ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বুধবার রাজা-রানি মেলিয়া সফর করবেন। কূটনৈতিক ঝুঁকি- স্পেন ও মরক্কোর ঐতিহাসিকভাবে স্পর্শকাতর সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ সফর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হচ্ছে। অভিবাসীদের ঢল নামার পেছনে মরক্কোর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। স্পেনের ডানপন্থিরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মরক্কো এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছে। তবে মরক্কো ও সানচেজ—উভয় পক্ষই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ঢাকা, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬ (বাসস)

ফলো করুন সর্বশেষ খবর পেতে আমাদের সাথে থাকুন

সংশ্লিষ্ট সংবাদ:

সংকটকবলিত সেউতায় স্পেনের রাজা-রানির স্পর্শকাতর সফর
0:00 / 0:00
1x
🔒